Wednesday, November 25, 2009

চির অচেনা

 


ওভাবে জল ছিটিও না । শাড়ীটা তো ভিজে যাবে।

চমকে উঠলো সেজুঁতি।অনিমেষের কন্ঠ না? কোথা হতে কথা বলে উঠলো অনি? আজ যে খুব সখের একটা নীল শাড়ি পরেছে সেজুঁতি। অনির খুব পছন্দের রঙ। আকাশী নীল। অনির জন্য। অনিমেষ আসবে বলে। তার জন্যই যে সেজুঁতির এত প্রতীক্ষা। কিন্ত অনি যে নেই। আছে শুধু ওর স্মৃতিটুকু। এই স্মৃতিকাতরতা কি সেজুঁতিকে বিভোর করে তুলে বারবার? তাই রিসোর্টের চারধারে ঘেরা খোলা বারান্দায় এসে দাঁড়ালে যেমন ও অনিমেষের স্পর্শ পায় তেমনি রিসোর্টের কাছের ছোট্ট এই জলাধারের পাশে এসে বসলেও সে অনির উপস্থিতি অনুভব করতে পারে। পা দিয়ে জল ছিটালে টের পায় অনির ব্যাকুলতা।

জলাধারের ঐ পাশটাতে অনেক গাছ গাছালী ভরা ছোট্ট একটা জঙ্গল আছে। আর এই জলাধারের প্রবাহ গিয়ে মিশেছে রিসোর্টের বাইরের ঐ দীর্ঘ স্রোতধারার সাথে। জঙ্গলের গাছ গাছালীর মাঝে হারিয়ে যেতে খুব মন চাইছে আজ তার।বড্ড ক্লান্ত সে।প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণায় খুব দুখী একটা মানুষ। অনি চলে যাওয়ার পর থেকে ও খুব একা।তাই কাঞ্চনপুরের জনমানবহীন কোলাহলমুক্ত এই রিসোর্ট এখন তার নিঃসঙ্গতার সঙ্গী।

সেজুঁতিদের পারিবারিক ব্যবসার একটা অংশ এই রিসোর্ট। সারাবছর টুরিস্টের আগমনে এর সামনের দিকটায় চলে জমজমাট ব্যবসা। আর পিছনের এই বাগান ঘেঁষা অংশটুকু শুধুই সেজুঁতির । খুব বেশী করে অনিমেষকে খুঁজে পায় সে এই নির্জন জায়গাটায়। কল্পনা আর ভাবনায় রচনা করে অনির সাথে কিছু সুন্দর মুহূর্ত। কিন্তু এ সকল তো তার একান্তই কল্পনা। বাস্তবে? অনি তো নেই। কোথাও নেই। আর সেজুঁতি আছে অনিকে ছাড়া। তারপরও সেজুঁতি মেনে নিতে পারেনা এ সত্যি। মনে প্রাণে বিশ্বাস করে অনি আছে। ও আছে এ মহাজগতের কোথাও না কোথাও। অনি হারিয়ে যায়নি ।মানুষ মরে গিয়েও হারিয়ে যেতে পারেনা। হয়তোবা চলে যায় অন্য কোন জগতে, অন্য কোন অবস্থায়, যা আমাদের ভাবনার যেমন অতীত, বোধেরও তেমনি উর্ধ্বে। অনি হয়তোবা সেখানে।

সেজুঁতি আবারো আনমনে হয়ে উঠে। জলাধারের পাশের ইট বাঁধানো ঘাটের সিঁড়িগুলো একে একে পার হয়ে উপরে উঠে আসে। শাড়িটা ধরেছে একহাতে।একটু এলোমেলো শাড়ীটা ঠিক করে নিয়ে চারিদিকটা দেখে ভাবনার মাঝে আবারো ডুব দেয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসবার আগেই একবার ঘুরে আসবে ঐ জঙ্গলটার দিক থেকে। বাউন্ডারী দেয়ালের পাশে আরো বেশি গাছগাছালি।দু চারটে হরিণও খেলে বেড়ায় ওপাশে। এই অবকাশ যাপন কেন্দ্রটি গহীন অরন্যের হাতছানি দেয়া সৌন্দর্য্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছে বিশেষ ভাবে। হরিণছানাদের ভয় নেই যদিও, তবুও অন্যান্য পশুপাখিদের কথা তো আর বলা যায়না। এসব ভেবে ভেবেই সেজুঁতি এগুতে থাকে গাছপালার ভীড়ে।

অশ্বত্থ গাছের বিরাট শাখা নুইয়ে পড়ে আছে জলাধারের শেষ প্রান্তে।পাখির কিচির মিচিরে বনের এই গহীন ভিতরটা মুখরিত। বেশ ঘন বনের গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে সূর্যের সোনালী আলো মাঝেমাঝে ঝিকিমিকি করে। পায়ের নীচে এবড়ো থেবড়ো সরু পথ চলে যাচ্ছে বহুদূরে আরো গহীনে। সেজুঁতি নিজেও ভাবেনি এই রিসোর্টের পরিধি এতটা বিশাল। হেঁটে যতই সামনে এগুচ্ছে ততই মনে হচ্ছে শেষের দেখা আর মিলবে কি? পাখির গান, সুমিষ্ট সুরেলা কন্ঠধ্বনি ওকে আরো মোহগ্রস্ত করে তুলেছে। ও এগিয়ে চলেছে বনপথ ধরে কোন এক অজানা আকর্ষণে। মোহাবিষ্ট সেজুঁতি হারিয়ে গেছে প্রকৃতির মাঝে। হারিয়ে গেছে নিজের নিজ থেকে। কোন এক সুরেলা সুরধ্বনি বাজছে চারিধার। টেনে নিয়ে যাচ্ছে সেজুঁতিকে কোন এক অনন্ত অসীমে। অজানা সে জগত। চারিদিকে ঘন বন। কাঠবেড়ালীর ছোটাছুটি। হঠাতই সেজুঁতি সম্বিত ফিরে পেল। কাঠবেড়ালীদের আনন্দ দেখে মনে হলো হাতের ব্যাগে সে যে কয়টা বাদাম নিয়ে এসেছিল ওগুলো ওদেরকে দিলে কেমন হয়। হাতের ব্যাগটা খুলে বাদামের প্যাকেটটা বের করতেই সেজুঁতি আবিষ্কার করলো বাদামগুলো যেন পুরোনো হয়ে গুড়ো গুড়ো হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এত পুরোনো তো হবার কথা নয়। আজ বিকেলে এখানে আসবার আগেই তো বাদামগুলো কিনে প্যাকেট করে ব্যাগে ভরেছে। কিছু বুঝতে না পেরে আনমনেই বাদামের প্যাকেটটা ব্যাগে ভরতে গিয়ে লক্ষ্য করলো হাতের ব্যাগটাও বেশ পুরোনো মনে হচ্ছে। চোখের ভুল নয়তো? তার প্রিয় ঝকমকে এই পার্সটা এত পুরোনো দেখাবার তো কথা নয়। মাত্র সেদিনই তো কেনা হল বাজার থেকে। আর এ কয়েকদিনেই এত মলিন আর এত ধূসর হয়ে গেল। যেন জাদুঘরে রেখে দেয়ার মতন কোন অ্যান্টিক। নিজের চোখের ভুলে নিজেই হাসলো। আর ঠিক এ সময়েই পেছন থেকে একটি কাঠবেড়ালী টুক টুক করে ডেকে উঠলো। যেন কাঠবেড়ালীটি ওকেই ডাকছে। ওর দিকে চেয়ে চেয়েই ডাকছে। সেজুঁতি আবারো পেছন ফিরে চাইলো। গুড়ো গুড়ো বাদামের কণাগুলো ওকে দেবার জন্য মন চাইলেও তা পারলোনা। কাঠবেড়ালীকে একঝলক দেখে সেজুঁতি আবারো সামনে এগুবার চেষ্টা করলো । কিন্তু অত্তটুকুন কাঠবেড়ালী নাছোড়বান্দা যেন। আবারো টুক টুক করে ডেকে উঠলো। সেজুঁতি পেছনে ফিরে চাইতেই দেখলো গাছে গুঁড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাসিমাখা মুখে অনিমেষ। এও নিশ্চয়ই চোখের ভুল। আরো একটি ভুল । কারণ অনিমেষ আসবে কোথা থেকে? অবাক হয়ে চেয়ে রইলো সেজুঁতি বেশ খানিক্ষণ। অনিমেষ কাছে এলো। সাদা আভায় আলোকিত হয়ে উঠেছে বনের পরিবেশ। মাঝে অনিমেষ দাঁড়িয়ে ঠিক ওর সামনে। বিশ্বাস করতে না পারলেও অস্ফুট কন্ঠে বলল, তুমি?

অনিমেষের সেই মনভোলানো হাসি। অনাবিল প্রাণোদীপ্ততায় ভরপুর। খুব আদুরে গলায় বলল,

-এসো সেজুঁতি। এসো আমার সাথে।

সেজুঁতি কিছু না বুঝে হাত বাড়ালো । এ স্পর্শ তার বহুদিনের চেনা। এ তো তারই অনিমেষ। কিন্তু এ গহীন জঙ্গলে সে এলো কোথা হতে? মাস ছয়েক আগের সেই অ্যাকসিডেন্টে অনিমেষ তো তাকে ছেড়ে চলে গেছে তারই চোখের সামনে। আজ তার এমন কেন হচ্ছে? সবকিছু যেন এলোমেলো। সেজুঁতির প্রশ্নভরা চোখের বিস্ময় অনিমেষ ঠিকই বুঝতে পেরেছে। তাই হাতের আলতো চাপে অনিমেষ বললো,

-আমি তোমারই অনি। সেজুঁতি । আমি তোমারই অনি।তোমার অপেক্ষায় ছিলাম এতদিন। যেমন ছিলে তুমি।আজ আবার এক হলাম আমরা। এবার আর ছাড়াছাড়ি নয়।

কিন্তু সেজুঁতি আবেগে উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে পারছে না কেন? ওর অনিকে ছুঁয়েও ওর মনে বারবার প্রশ্ন এসে দাঁড়াচ্ছে, তাহলে কোথায় ছিলে এ ছয় মাস অনি?

সেজুঁতির শাড়ির আঁচলে মুখটা আলতো ভাবে ছুঁয়ে অনি বললো, অন্য এক ইউনভার্সে। তোমার জগতের মতো ঠিক অন্য একটি জগতে। তোমার পৃথিবীর মতো এ আরেক পৃথিবী যেখানে এখন তুমি এসেছো। আমার অ্যাকসিডেন্টের পর এখানে আমি এসেছি পড়েছি। আসলে অ্যাকসিডেন্টের পর নয়। বরং বলা চলে এখানে আসার পরপরই ঐ পৃথিবীতে আমার অ্যাকসিডেন্ট ঘটেছিল। তারপর থেকেই আমি তোমার অপেক্ষায় রয়েছি সেজুঁতি । সময় এখানে স্থির। কিন্তু তোমার এই আগমন মুহূর্তে আমাদের সেই ফেলে আসা পৃথিবীতে সময় আরো বিশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এখনও ঠিক বিশ বছর পর সেই জগতের পৃথিবীতে তোমার বাবা মা কাঞ্চনগড়ের সেই রিসোর্টের পাশে বসে থাকেন আনমনে। তোমায় খুঁজে বেড়ান সেই বাগানে, যে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হেঁটে তুমি আজ আমার কাছে এসেছো। কিন্ত এখানকার ডাইমেনশান তাদের ডাইমেনশান থেকে আলাদা হওয়াতে তারা যেমন তোমায় দেখতে পান না , তুমিও পাও না। আমিও তো পাইনি এতদিন সেজুঁতি। কিন্তু আমার আবেগ, আমার অনুভূতি তোমায় আমার কাছে টেনে এনেছে আমার এই জগতে।চারিদিকে তাকিয়ে দেখ। তোমাদের কাঞ্চনগড়ের রিসোর্টের সেই বাগান। আর তেমন কি কিছু চোখে পড়ে? ঐ স্থাপনাগুলো? ইট বাঁধানো পুকুরের পাড়গুলো? চেয়ে দেখ, বহুদিনের শ্যাওলা জমে থাকা ও দিকটা আর কেউ ব্যবহার করে না। তার কারণ একটাই। তুমি যে মুহূর্তে এখানে প্রবেশ করেছ সে সময় থেকে তোমার পৃথিবীতে নিখোঁজ তুমি। হাজার খোঁজাখুঁজির পর তোমায় না পেয়ে তোমার পরিবার এই রিসোর্টের ব্যবসা বন্ধ করে দেন। আজ প্রায় বিশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে ওখানে। রিসোর্টের ও দিকটায় মানুষের কোলাহল মুখরিত পদচারণা আর দেখা যায় না।যে দুজন মানুষ তোমায় খুঁজতে বারবার এ রিসোর্টে ফিরে আসেন তাদের পক্ষেও সম্ভব হয় না এই ডাইমেনশানে তোমার কাছে চলে আসা। পৃথিবীতে তুমি নেই বিশ বছর। আর আমি মৃত অ্যাকসিডেন্টে। আমার দেহ পড়ে আছে ওখানকার মাটিতে। এই ডাইমানশানে আমি নতুন দেহ ধারণ করেছি। কিন্তু তুমি ওখানে কোথাও নেই। তুমি এসেছো পৃথিবীর সেই দেহ ধারণ করেই। এক মুহূর্তের এদিক সেদিকে বিশটি বছর পেরিয়ে গেছে বলে তোমার সাথের সব কিছু পুরোনো হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও সেজুঁতি, তোমার পরনের সেই শাড়িটা? আমারই দেয়া এই নীল শাড়িটায় তুমি এখনো সুন্দর। তুমিতো আগের মতনই আছো।

কথাগুলো বলে অনি যখন শান্ত হল, হঠাতই যেন সেজুঁতি সম্বিত ফিরে পেল। তার সকল অনুভূতি দিয়ে অনিমেষকে সে আগের মতন করেই অনুভব করলো। অনিমেষের খুব একটা খটকা লাগেনি সেজুঁতির এই অপার বিস্ময়। তাই সেজুঁতি প্রশ্ন করার আগেই অনি উত্তরটা দিয়ে দিল। সেজুঁতি এ জগত থেকে আবারো আগের জগতে ফিরে যেতে পারবে যদি প্রকৃতি এখানেও কোন অ্যাকসিডেন্ট নির্ধারিত করে রাখে। আর ততদিনে ফেলে আসা পৃথিবীর সময় আরো দুদশক বা চারদশক পেরিয়ে যেতে পারে । তখন সেজুঁতি ফিরে যাবে তার পুরোনো পৃথিবীর ভবিষ্যতের নতুন সময়ে। পুরোনো মানুষরা আর হয়তো বা থাকবে না। নতুন প্রজন্মের কাছে তার দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি তাকে তখন করে তুলবে চির অচেনা।

 .....

নভেম্বর, ২০০৯

Wednesday, November 11, 2009

একটু দেরী - ২

সোহানের পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত সপ্তাহে। ইয়ার ফাইনালের ঝামেলায় অনেকদিন ব্যস্ত ছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়াতে স্বস্তির নিঃশ্বাস। এবার তাই ভাবছে ঘুরবে বেড়াবে যদিও ঘুরার মতো তেমন কোন বিশেষ জায়গা নেই এই জনবহুল শহরে। তাই দূরে কোথাও একটু নির্মল বাতাসের ছোঁয়া লাগে যেখানে, সেখানেই যাবে। মা থাকলে হয়তোবা মাকে জিজ্ঞেস করতো কোথায় যাবে। বাবাকে বলার কোন মানেই হয় না। মা হারিয়ে যাবার পর বাবা তো প্রায় নিস্তব্ধ। কারো সাথে তেমন একটা কথা বলেন না তিনি। প্রানবন্ত বাড়িটা যেন এখন প্রাণহীন কয়েকটা মানুষের নিস্তব্ধ বসবাস আর সময়কে বয়ে নিয়ে চলা। মায়ের চলে যাবার পরে সোহান স্কুল পাশ করেছে। কলেজ পাশ করে গ্র্যাজুয়াশানও কমপ্লিট করে ফেলেছে। কেমেস্ট্রিতে পড়তে গিয়ে পাড়ার বন্ধুদের কাছে রসায়নবিদ নামেও খ্যাতি অর্জন করেছে। রসায়নের অসম্ভব সব আবিষ্কারের কোন কিছু না করেই তার এই খ্যাতি তার মন্দ লাগে না। 

আজ ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র গুলো গুছিয়ে রাখতে রাখতে এই সবকিছুই মনের মাঝে উঁকি দিচ্ছিল। মাকে যদি জানাতে পারতো। মা নেই। মাতো তার কোথাও নেই। হঠাতই মা নিখোঁজ একদম বাড়ির ভিতর থেকে। কিন্তু কিভাবে,সে কারণ আজও কেউ খুঁজে পায়নি। আজও কেউ জানে না মা কোথায় গেলেন সেদিন। মায়ের কথা ভাবলেই তার কন্ঠস্বর শুনতে ইচ্ছে করে খুব। মাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে। মায়ের পাশে বসতে ইচ্ছে করে। আবারো তারপর দীর্ঘশ্বাস এসে মনকে একদোলায় আনমনে করে তুলে। সম্বিত ফিরে পেতে সোহান আবিষ্কার করে নিজেকে খুব একা। কল্পনাগুলো খুব দূরে হারিয়ে যায়। এমনটা ওর প্রায়ই বোধ হয়। কোন এক অনন্তে নিজেকে হারিয়ে ফেলা অথচ কাকে বলবে এ কথা।

বাবার কন্ঠস্বরে চমক ভাঙে সোহানের। মজহার সাহেব ছেলেকে আদর করে ডাকেন ছোটকা। দু’ছেলের মধ্যে ছোট বলেই এত আদুরে ডাক নাম তার। অনেকদিন পরে বাবা এসেছেন তার ঘরে। পরীক্ষা শেষে বেড়াতে যাবে দূরে কোথাও এমন প্ল্যান জানানোর পর বাবা নিশ্চুপ ছিলেন কিছুদিন। আজ তাই জিজ্ঞাসা করছেন বেড়াবার কোন জায়গা ঠিক হলো কিনা। কিছু না ভেবেই সোহান উত্তর দিল মেজ খালার বাসায় যাবে। ওই শহরে একটা ছিমছাম সুন্দর পাহারী ঝর্ণা আছে, যা দেখতে পর্যটকদের অভাব হয় না অথচ তার এখনো দেখা হয়ে উঠলো না। বাবাকে বললো, দুদিনের মধ্যেই রওনা দেবার সকল ব্যবস্থা করে ফেলবে। সোহানের এই যাবার মুহূর্তে কি যেন ভেবে মজহার সাহেবও সিদ্ধান্ত নিলেন ছেলের সাথে  ভ্রমণে।


ট্যুরিজম স্পটগুলোয় মানুষের উপচে পড়া ভীড়। খালার বাসায় দুদিন থেকে সোহান তার বাবাকে নিয়ে বেড়াতে বেরুলো। পাহাড়ি ঝর্ণা যে অনবদ্য জলপ্রপাতের সূচনা করেছে তা দেখতে তার যত না ভাল লাগে তার থেকেও বেশী ভাল লাগে প্রকৃতির নিপুণ হাতে আঁকা চারিপাশ। বিশেষ করে ভোরের বেলায় সূর্য উঠার একটু আগ দিয়ে অমন সুন্দর পরিবেশে আনমনে হাঁটতে হাঁটতে পথ হারিয়ে ফেলতে যেন মজা। সোহানের তেমনই লাগছিল আজ সকালটা। আনমনে পাহাড়ের ঢালের কোল ঘেঁষে অনেকটা পথ চলে এসেছে নিজের অজান্তে। ছোট ছোট পাথুরে কণা। সারা রাস্তা জুড়েই তাই। সোহান এমন একটা পরিবেশই যেন খুঁজছিল মনে মনে। সূর্য উঠার আরো কিছুক্ষণ দেরী। চারিদিকে নরম আলোয় রাতের আঁধার কেটে গেছে। সোহান হেঁটে চলছে ধীর গতিতে। একাকী। আনমনে। হঠাতই মনে হলো কানের পাশ দিয়ে কারো ফিসফিস শব্দ। ওকেই ডাকছে যেন। ওর আদরের ডাকনামে। 
-ছোটকা।
সোহান চকিতে পিছনে ফিরে চাইলো। কেউ তো নেই তার আশেপাশে। 
আবারো সেই ডাক। ঠিক যেন মায়ের গলা। মা ডাকছে  খুব কাছ থেকে। অথচ আওয়াজটা ভেসে আসছে যেন বহুদূর থেকে। বহুদূরে যেন মা থাকেন, হয়তোবা দেখতেও পাচ্ছেন ওকে। নাহলে ডাকছেন কেন?

নিয়মিত ভোরবেলাই উঠে পড়েন মজহার সাহেব। কিন্তু আজ একটু দেরী হয়ে গেছে। ঘুম থেকে উঠে দেখলেন সোহান বাইরে গেছে হাঁটতে। হালকা শীত শীত লাগছে আজকের সকালটা। সোহান কখন গেছে তিনি জানেন না। তবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসবে বলে মনে হচ্ছে। প্রাতঃরাশ সেরে খবর কাগজটা পড়া শেষ করতেই ঘড়ি দেখে সময়টা ঠিক করে নিলেন টিভির খবরের সাথে। সকাল নয়টা বেজে ত্রিশ মিনিট। বেশ সময় কেটে গেছে অথচ সোহান গেছে সেই কখন। এখনো ফিরে আসছে না তাই চিন্তা করার পালা শুরু হলো মজহার সাহেবের।
খবর কাগজটা গুটিয়ে ঘরের দিকে রওনা হলে। কাপড় চোপড় পালটে বাইরে বেরুবেন ছেলেকে খুঁজবার আশায়। তৈরী হয়ে বের হতে গিয়ে লক্ষ্য করলেন হাতের ঘড়িটা নেয়া হয়নি। ফিরে এসে টেবিলের ওপর থেকে ঘড়িটা নিয়ে আবারো আয়নার সামনে দাঁড়ালেন। চুলটা ঠিক করতে গিয়ে বিস্ময়ে অবাক হলেন। 

আয়নায় কিছুক্ষণের জন্য হলেও তিনি আলেয়াকে দেখেছেন তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে। এ যেন আলেয়াকে পাশে নিয়ে দাঁড়ানো নিজেরই প্রতিরূপ কিন্তু এখানে নয়,তার প্রতিরূপ ইউনিভার্সে। আলেয়াকে উনি স্পষ্টই দেখছেন। চুলগুলো কপালের কাছে আলতো করে ছড়ানো,মেটে রঙের তাঁতের শাড়ি পরা। গলাট কেঁপে উঠলো মজহার সাহেবের। কিছু বলতে চেয়েও পারছেন না। অজস্র চেষ্টা করেও পারছেন না। কেমন যেন অবশ লাগছে । তবুও তো আলেয়াকে নাম ধরে ডাকতে ইচ্ছে করছে তার। আয়নার প্রাচীর ভেদ করে ওই প্রতিরূপ ইউনিভার্সের মাঝ থেকে বের করে নিয়ে আসতে ইচ্ছে করছে তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে। 
হঠাতই দরজা খোলার শব্দ হলো। মজহার সাহেবের অনুভূতি হারিয়ে যায়নি কোথাও। হাতের ঘড়িতে সময় দেখলেন। পনের মিনিট পেরিয়ে গেছে সকাল দশটা বেজে। দরজা খুলে ছোট ছেলে সোহান প্রবেশ করলো ঘরে। ওর চোখে বিস্ময়। প্রাতঃভ্রমণে আজ সে তার মায়ের কন্ঠস্বর শুনেছে। বাবাকে বলবে তার এ অনুভূতির কথা। 
ওর মা নিশ্চয়ই আছেন কোথাও না কোথাও,এ বিশ্ব চরাচরে। খুব আবেগে আপ্লুত হয়ে এখনই বলবে, বাবা মা এসেছিলেন,আজ সকালে আমার কাছে। অতিবাস্তব অনুভূতিতে জড়ানো মজহার সাহেব এ বর্ণনার প্রতিটি বিন্দু উপলব্ধি করবেন তার হৃদয়ের গভীরতম প্রকোষ্ঠে।

Monday, November 2, 2009

একটু দেরী - ১

 

হাতের বালা দুটো খুলে টেবিলে রাখলো আলেয়া। তারপর কপালের চুলগুলো আলতো ভাবে সরিয়ে নিজের মুখটাকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলো। বহুদিন পরে আয়নার সামনে দেখে কেমন যেন অচেনা লাগছে নিজেকে। মুখে বলি রেখা পড়েছে। চোখের নিচে কালি। এই চেহারা তার খুব চেনা নয়। কিন্তু তারই অবিচ্ছেদ্য অংশ,গত চল্লিশ বছরের সংগী। নিজেকে নিয়ে কখনোই আগ্রহী নয় আলেয়া। অথচ আজ এতদিন পর বড্ড প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে তার নিজেকে। কে সে?

কেন সে এখানে? 

কিসের জন্য? 

স্মৃতিগুলো তার পুরনো হলেও ঝাপসা নয়। খুব ভাল মনে আছে সেই দিনগুলোর কথা যখন অনেক স্বপ্নের জালে জড়ানো জীবনটা হাসি আনন্দে কেটে যেত। 

আর আজ? 

আজ তো তার সময়গুলো এগুতে চায়না। থেমে থাকে খুব ধীর ভাবে। একঘেয়ে মনে হয় সবকিছু। এই ক’টি বছরে এত পরিবর্তন। সময় তো বেশী চলে যায়নি। আঙুল গুনে হিসাব করলো- পনের বছর। পনেরটি বছর মাত্র কেটেছে এক উদ্দেশ্যহীন ঘোরের মাঝে। এর আগের সময়টা ছিল বেশ ছকে বাঁধা হিসেবী কায়দায় গড়া। তারপর হঠাত করেই সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে সময়ের স্রোতে শুরু এই উদ্দেশ্যহীন যাত্রা। এখনো তো সে চলছে। সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সময়ের গভীর সমুদ্রে। এরপর বলি রেখাগুলো আরো স্পষ্ট হবে। চিরচেনা চেহারাটা আরো অচেনা হবে। আশপাশের অস্তিত্ব আরো দূরের ঠেকবে। ভাবনায় আচ্ছন্ন আলেয়া ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে নিজেকে। ভাবনাগুলো যেন ঘূর্ণি আকারে ওকে টেনে নিয়ে যেতে চাইছে সামনের আয়নাটার ভেতরে। ও যাবে কিনা ভেবে পাচ্ছে না। আয়নার ভেতরের ওই জগতটাতো তার অজানা। ওখানে প্রবেশের জন্য মন সাঁয় দিচ্ছে না যে। দ্বিধা কাজ করছে। অথচ ঘূর্ণিবলয়ে ও যেন মিশে যাচ্ছে নিজেরই অজান্তে। নিজের ভার যেন এক নিমেষে হালকা হয়ে চূর্ণ করে তাকে একাকার করে ফেলেছে। প্রচন্ড গতি এসে গেছে ওর মাঝে। ছুটে যাচ্ছে সামনে। অনেক আলোর হাতছানি। দূরে দেখতে পাচ্ছে অনন্ত মহাশূন্য। আলোর কণাগুলো ওকে ঘিরে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ঐ অসীমের দিকে,মহাজগতের সীমানা বরাবর শেষ প্রান্তে। 

চারিদিকে আলোর খেলা আর ঐ দূরের অন্ধকারে অসংখ্য তারার মেলা। এই আকাশ তার খুব চেনা। রাতের অন্ধকারে নির্মল মেঘমুক্ত শরতের আকাশ যেন। কিন্তু অসীমের পানে ধেয়ে চলার এই বিশালতার ভার এবার তৈরী করেছে অন্য এক অনুভবের, নতুন এক বোধের। আলেয়া ঠিকই বুঝতে পারছে ওর চিরচেনা বেডরুমের ড্রেসিং টেবিলের সামনে ও আর নেই। ওর ঘরে আর ঘরের মাঝের খাটের পাশের চেয়ারটিতে ও আর বসে নেই। এবার পিছনে ফিরে তাকালো আলেয়া। ঘনকালো আঁধারে অসংখ্য তারার ঝিকিমিকি । আর তারপর ধোঁয়াটে আবরণ। ও কি তার চিরচেনা পৃথিবীর সৌর বলয় অতিক্রম করে ছায়াপথের সীমানায় চলে এসেছে? 

পৃথিবীকে স্পষ্ট আর দেখা যাচ্ছে না। 

কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডে এতটা পথ পেরিয়ে এলো কিভাবে? 

যত এগুচ্ছে তত যেন তার চারিদিকের ঘূর্ণি বলয়ে মিশে যাচ্ছে আরো বেশী করে। নিজেকে আবারো খুব হালকা মনে হচ্ছে। স্মৃতির ওপাড়ে আয়নার সামনে বসে অতীত রোমন্থনের বিষয়গুলো হঠাতই যেন বড্ড তুচ্ছ হয়ে গেছে। ঐ জীবনটা এক নিমেষে ক্ষুদ্র ঠেকলো আলেয়ার কাছে। 

অথচ একটা মানুষের সুখে দুখে ভরা সমগ্র জীবন কিভাবে এত তুচ্ছ হয়ে যেতে পারে? 

এই বিশালতার মাঝে প্রবেশেই তার এ উপলব্ধি। আর তাই বোধহয় কপালের চুলগুলো সরিয়ে বলি রেখা দেখবার বাসনা অর্থহীনতায় পর্যবাসিত হলো। 

নিজেকে দেখতে ইচ্ছে করছে না আর। মিশিয়ে ফেলেছে অসীমতার মাঝে। যেন খুব শান্তির হাতছানি আর অপার স্বস্তিবোধ এই নিরুদ্দেশ যাত্রায়। এমনটাই তো সারাজীবন পাবার জন্য সে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জীবনকি ঐ পৃথিবীতে থাকবার সময়টুকু? নাকি এই সীমাহীন ছুটে চলাও এক জীবন,এসব অদ্ভুত চিন্তা মাথায় জেঁকে বসেছে এতক্ষণে। কতক্ষণ হলো ও এসেছে পৃথিবী ছেড়ে? হিসাব মেলাতে পারছে না। নাকি সময়ের হিসাব এখানে মেলে না? নাকি সময় বলে আর কিছু নেই? আলেয়া হতবিহবল। ও বুঝাতে পারবে না এই নতুন আত্মপোলব্ধি যেখানে সময়ের হিসাব মেলাবার প্রয়োজন পড়ে না। পৃথিবীতে পার করা ঐ ক্ষণগুলো যেন ছিল এক স্বপ্ন। ক্ষণিকের উপলব্ধি মাত্র। 

ঘূর্ণিবলয়ের সাথে মিশে আলেয়া অনন্ত মহাজগতের কেন্দ্রে নিপতিত হল। নিমেষে আবিষ্কার করলো পৃথিবীর সেই কাছের মানুষগুলো তাকে আর যেন কাছে টানছে না। কোন আকর্ষণ নেই ঐ জীবনের জন্য। উপলব্ধির অন্য মাত্রায় যেন তার প্রবেশ ঘটলো।

মজহার আজ কি মনে করেই আধঘন্টা আগেই অফিস থেকে রওনা দিয়েছে। আজ কেন যেন তার তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে মন চাইছে। তাই তাড়াহুড়ো করে অফিসের ফাইলপত্র গুছিয়ে সহকর্মীদের বলে অফিস থেকে বেরিয়ে এলো। রাস্তার জ্যাম পেরিয়ে বাসার গলির মোড় পৌঁছাতেই মনে হল আলেয়ার জন্য দু'স্টিক রজনীগন্ধা নিয়ে যেতে। আবারো বড় রাস্তায় ফিরে ফুলের দোকান থেকে রজনীগন্ধা স্টিক কিনে বাড়ি পৌঁছাল। উঠোনে আশপাশের বাচ্চারা আর নিজের ছেলে দুটো খেলাধূলায় মহা ব্যস্ত। আজ তাড়াতাড়ি বাবাকে আসতে দেখে ছোটটা গেইটের দরজা খুলে দিয়ে জিজ্ঞেস করল,ফুল কার জন্য বাবা?

-তোর মায়ের জন্য। তোর মা কোথায় রে?

-মা তো ঘরেই,বলেই ছোটকা ঘরে প্রবেশ করল। গলায় তার আনন্দের উচ্ছ্বাস। মাকে ডেকে বলল, মা দেখ বাবা এসেছে। কি সুন্দর ফুলের তোড়া আর আমার জন্য চকলেট। 

সারা বাড়িময় মা মা করে কোথাও মাকে খুঁজে না পেয়ে ছোটকা খেলতে চলে গেল। যাবার সময় বলে গেল, মাকে খুঁজে পাচ্ছিনা। 

হয়তোবা আলেয়া পিছনের উঠোনে কাপড় মেলছে। এর মধ্যেই মজহার উঠোন পেরিয়ে প্রবেশ করেছে ঘরে। সামনেই বসার ঘর । তা পেরিয়ে স্টাডি আর তার পরেই শোবার ঘর। ওখানে ও আলেয়াকে দেখতে না পেয়ে পিছনের উঠোনে গেল। নাহ্‌ সেখানেও নেই। কলপাড়টা শুকনো। কোন কাজই বোধহয় কলপাড়ে হয়নি আজকে। ঘরে ঢুকে মজহার ফুলগুলো বিছানার পাশের ড্রেসিং টেবিলে রাখলো। টেবিলের ওপর চিরুনীটা পড়ে আছে। কিছু চুল জড়ানো। এই মাত্রই মনে হয় আলেয়া ড্রেসিং টেবিল ছেড়ে উঠে গেছে। 

কিন্তু গেল কোথায়? 

মজহার চারিদিকে তাকিয়ে ওকে খুঁজে পেল না। স্নানঘরের দরজাটা হাট করে খোলা। আলমারির দরজা টা আধো খোলা, সারা ঘর পরিপাটী করে সাজান। বিছানাটা খুব সুন্দর করে বিছানো। আলেয়া ঘরদোর সাজিয়ে গুছিয়েই আয়নার সামনে বসেছিল। পরিচর্যা শেষে উঠেও গেছে কোন কাজে। কিন্তু বাইরে যদি না যেয়ে থাকে তাহলে ঘরে কোথাও নেই কেন? 

মজহার বুঝে উঠতে পারছে না ঠিক যেন।


ফোনটা বেজে উঠলো হঠাত। ধরতে কাছে যেয়ে চোখে পড়লো টেবিলের ওপর আয়নার ওপাশে আলেয়ার হাতের বালা দুটোর প্রতিবিম্ব। বেশ অবাক করলো মজহারকে। প্রতিবিম্বে আয়নার মাঝে, সাদা লেইসের টেবিল-কভারের ওপর পড়ে আছে বালা দুটো অথচ আয়নার এপাশে কিছুই নেই। চিরুনী পাউডার আর কয়েকটা প্রসাধনী সামগ্রী ছাড়া রজনীগন্ধা স্টিকগুলো সরিয়ে মজহার খুঁজবার চেষ্টা করলো বালাদুটো। মজহার ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না যে কিভাবে আয়নার বালাদুটো স্পষ্ট দেখা যাবে যার অস্তিত্বই এখানে নেই।

অযথাই ফোনটা বেজে উঠলো আবার। কেউ কথা বললো না। অপর প্রান্তে মজহার আলেয়ার কন্ঠস্বর শুনতে চেয়েছিল বোধহয়। 
আলেয়া যদি বলতো,আমি আসছি। আমার আসতে খুব বেশী কি দেরি? 
মহাজগতের সীমানা অতিক্রম করে অনন্ত অসীম থেকে আমি আসবো তোমার কাছে। তুমি অপেক্ষা কর। আমার আর একটু দেরি। 
..............
০২/১১/২০০৯

দীপার প্রেম

 তারিখঃ ৪ঠা এপ্রিল ২০০২ স্থানঃ লেকচার হল, দ্বিতীয়তলা  ডিউটি করবে দীপা আর সুমন  সময়ঃ রাত আটটা থেকে ১২টা পর্যন্ত  অর্থাৎ এই চার ঘন্টায় লেকচ...